কাঁচা-ওয়েট ব্লু চামড়া (পশম ছাড়িয়ে প্রক্রিয়াজাত করা) রফতানিতে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। ফলে আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত এলসি খুলতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চামড়া রফতানিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্র সংযুক্ত করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২১ মে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটি’র প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রফতানি নীতি ২০২৪-এর ২৭-এর পরিশিষ্ট-২ (শর্তসাপেক্ষে রফতানি পণ্য তালিকা)-এর ১৬ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ‘কাঁচা, ওয়েট ব্লু চামড়া কেস টু কেস ভিত্তিতে রফতানিযোগ্য’ পণ্যের রফতানির শর্ত স্থগিত করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, বর্ণিত প্রেক্ষাপটে ‘কাঁচা, ওয়েট ব্লু চামড়া কেস টু কেস ভিত্তিতে রপ্তানিযোগ্য’ পণ্যের রফতানি আগামী তিন মাস, অর্থাৎ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত অবাধ ও উন্মুক্ত করা হলো।
বিগত প্রায় এক দশকের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার। প্রায় ৩৫ বছর পর সে কারণে কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির শর্ত তিন মাসের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা খুশি হলেও আপত্তি জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। সার্বিকভাবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়ার দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, কাঁচা-ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি করা গেলে দেশে চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দাম পাবেন বিক্রেতারা।
দেশ থেকে কাঁচা চামড়া ও ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শেষ কবে কাঁচা চামড়া রফতানি হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। তবে ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত ওয়েট ব্লু চামড়া বাংলাদেশ থেকে রফতানি হতো। এরপর শুধু ২০২১ সালে কেস টু কেস ভিত্তিতে (বিশেষ বিবেচনায় অল্প কয়েকজনকে) এক কোটি বর্গফুট ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দেয় সরকার। অর্থাৎ এ বছর কাঁচা-ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি সবার জন্য উন্মুক্ত হলে তা হবে অন্তত ৩৫ বছরের বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়ার মতো পদক্ষেপ। ওয়েট ব্লু করা চামড়া দুই বছরের বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায়।
উল্লেখ্য, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ১ কোটি ৪ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০১৩ সালে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। সেবার গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা। এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে চামড়ার দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
এ বছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা। তবে বিগত কয়েক বছর সরকার নির্ধারিত দামের অর্ধেকেও চামড়া বিক্রি হয়নি। রাজধানীসহ সারা দেশেই কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানিদাতারা। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায় ও মাটিতে চামড়া পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।